ফেসবুক ২০৭০ সালের মধ্যে হবে ডিজিটাল গোরস্তান।

ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে একটা সময় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই ফেসবুক জগতে বাস করবে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ এর উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে মানুষ। মানুষ এখন প্রতিদিন ফেসবুকে একটা বড় সময় ব্যয় করে।

আমরা ফেসবুক প্রোফাইলে নানান ষ্ট্যাটাস এবং ছবিতে ভরিয়ে তুলি। বিভিন্ন মতামত, লাইক, শেয়ার ইত্যাদি দিয়ে থাকি ফেসবুকে। ফেসবুক হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল জগত। টাইমলাইনে অনেক বন্ধু যোগ হয় যা অনেকেরই আমরা চিনি না। ফেসবুক প্রোফাইল হয়ে উঠেছে আমাদের বাস্তব জীবনের একটি ভার্চুয়াল প্রতিফলন। ফেসবুক প্রোফাইলগুলে ঘেঁটে আমাদের সকল অজনা তথ্য নিতে পারে যাদেরকে আমরা একদমই চিনি না। আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফেসবুক প্রোফাইলগুলো।

আসলে সবথেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে, আমরা কি কখনও একবারও ভেবে দেখেছি মৃত্যুর পর ই ফেসবুক প্রোফাইলগুলোর এই ফেসবুক প্রোফাইলগুলোর কী হবে? ফেসবুক প্রোফাইল হচ্ছে একদম নিজস্ব সম্পত্তি। ফেসবুক প্রোফাইল একমনই একটি ব্যাপার যে পরম কাছের বিশ্বস্ত মানুষটিকেও নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড শেয়ার করে না।

এই ফেসবুক প্রোফাইলের মানুষগুলো যখন মারা যাবে তখর তার সেই ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আর নতুন কোন ছবি, ষ্ট্যাটাস, ফেইজ লাইক, কমেন্ট, রিয়েকশন কোনটাই আর করা হবে না। তার ম্যাসেঞ্জার হয়ে যাবে বিকোল। তার ম্যাসেঞ্জার থেকে কোন টেক্স মেসেজ, অডিও কল, ভিডিও কল কোনটাই আর হবে না।

মৃত মানুষের প্রোফাইলগুলো কি উধাও হয়ে যাবে? মানুষ মারাগেলে তার দেহ একদিন নি:শেষ হয়ে যায়, বন্ধ হয়ে যায় তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। কিন্তু খোঁজ খবর নিলে দেখা যাবে তার প্রোফাইলগুলো ঠিকই রয়ে গেছে। কিন্তু মৃত ব্যাক্তির ফেসবুক প্রোফাইলে আর কোন আপডেট হবে না। রয়ে যাবে তার ফেসবুক আইডি। একসময় তার প্রোফাইগুলো অচেতন হয়ে নীল-সাদা জগতে পড়ে থাকবে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষক দল তাদের গবেষণার মূল জিজ্ঞাস্য বিষয় ছিল, মৃতরাই কি দখল করে নিচ্ছে ফেসবুক? গবেষণা শেষে তারা যে উত্তরটি পেয়েছেন, তা হলো: যে হারে ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তাতে জীবিতের চেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এবং একটা সময় ফেসবুক হবে ডিজিটাল গোরস্তান।

অক্সফোর্ডের বিশেষ গবেষকরা জানিয়েছে, ২১০০ সালের মধ্যে অন্তত ফেসবুকের ১.৪ মিলিয়ন ইউজার মারা যাবে। ২০৭০ সালের মধ্যে ফেসবুকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড় যাবে জীবিত ব্যবহারকারীর থেকে বেশি।

  • ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে যে পরিমাণ ব্যবহারকারী ছিল, পরবর্তীতে তার অধিক আর কোনো নতুন ব্যবহারকারী যোগ হবে না। ফেসবুকের মৃত প্রোফাইলের ৪৪ শতাংশই আসবে এশিয়া থেকে। এবং এসব মৃত প্রোফাইলের প্রায় অর্ধেকই আবার আসবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। ২১০০ সাল নাগাদ এই দুই দেশ থেকেই ফেসবুকে সৃষ্টি হবে ২৭৯ মিলিয়নের মতো মৃত প্রোফাইল।
  • প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার যেমন ১৩ শতাংশ, প্রতিটি বাজার পরিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এ হারই বিদ্যমান থাকবে। সেক্ষেত্রে মৃত প্রোফাইলের সংখ্যায় আফ্রিকাও পেছন থেকে এসে এশিয়াকে ধরে ফেলবে। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ঘটবে নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে। ২১০০ সাল নাগাদ মোট মৃত প্রোফাইলের ৬ শতাংশেরই ঠিকানা হবে আফ্রিকার এই দেশটি। অপরদিকে, ফেসবুকে পশ্চিমা বিশ্বের মৃত প্রোফাইলের প্রতিনিধিত্বকারী সংখ্যাটি এশিয়া ও আফ্রিকার তুলনায় হবে খুবই নগন্য। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই থাকবে সর্বোচ্চ মৃত প্রোফাইলের আবাসস্থলের তালিকায় সেরা দশে।

মৃত প্রোফাইলগুলোতে থাকা ডেটা ব্যবহারের অধিকার কার হাতে থাকবে, এবং তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মৃতের পরিবার ও বন্ধুদের স্বার্থের কথা আমলে নেয়া হবে কি না। ভবিষ্যৎ ইতিহাসবিদরা অতীতকে জানার ও বোঝার ক্ষেত্রে এসব ডেটা কতটুকু কাজে লাগাতে পারবেন।

একদিন আমরা সকলেই মারা যাব, কিন্তু ফেসবুকে আমাদের ডেটাগুলো থেকে যাবে। আমাদের ডিজিটাল দেহাবশেষের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সংযুক্ত রয়েছে এমন প্রতিটি ব্যক্তিকেই প্রভাবিত করবে। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে ফেসবুকের মৃত প্রোফাইলের সংখ্যাটি আরো বড় কিছুরও ইঙ্গিত দেয়।

প্রিয় ভিজিটরগণ আমার এই পোষ্টটি আপনাদের কেমন লাগল তা জানিনা। তবে এই পোষ্টটি যদি ভলো লেগে থাকে তাহলে নিয়োমিত ভিজিট করুন টেক বাংলা ব্লগ সাইটে। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন এবং প্রযুক্তির সাথে থাকুন।

Add comment