ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এবং সুবিধা ও অসুবিধা।

ecommarce

ই-কমার্স বিজসেন প্ল্যান নিয়ে আজকে আমার পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেল। যারা এই বিজনেসটি করতে চান তাদের জন্য আমার এই আর্টিকেল। বেশিদিন হয়নি বাংলাদেশে ইন্টারনেট ভিত্তির বিজনেস ই-কমার্স চালু হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসাটি আসলে ওয়েবসাইট থেকে পণ্য বিক্রি করাকেই বোঝায় তা কিন্তু নয়। বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগেও ই-কমার্স ব্যবসা করা যায়। আর এই ধরনের পন্ধা কিন্তু অনেক বড়সরই হয়। আমি আজকে আপনাদের ই-কমার্স বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনাতে যাচ্ছি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

ই-কমার্স কী?

ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে যে সকল বৈধ্য পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে আর্থিক আদান করাটাই হচ্ছে, ই-কমার্স বাণিজ্য। এক কথায় প্রায় স্বয়ংক্রিয় আদান-প্রদানের এই বিপণন প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে ই-কমার্স। ই-মেইল, ফ্যাক্স, অনলাইন ক্যাটালগ, ইলেক্ট্রনিক ডাটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই), ওয়েব বা অনলাইন সার্ভিসেস ইত্যাদির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ই-কমার্সের প্রকারভেদঃ

  • ব্যবসা থেকে ব্যবসা (B2B):

একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা থেকে ব্যবসা ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয়। প্রায় ৮০ শতাংশের ৮০% এর মত ইলেকট্রনিক ই-কমার্স ব্যবসা থেকে ব্যবসা এর অন্তর্ভূক্ত।

  • ব্যবসা থেকে গ্রাহক (B2C):

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে ব্যবসা থেকে গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয়। এই প্রকারে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ইলেকট্রনিক বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে।

  • ব্যবসাথেকেসরকার (B2G):

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় খাতের মধ্যে ব্যবসা-থেকে-সরকার ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয়। রাষ্ট্রীয় কেনা/বেচা, লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যাবলী, কর প্রদান ইত্যাদি  সাধারনত ব্যবহৃত হয়ে থাকে ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

  • গ্রাহকথেকেগ্রাহক (C2C):

একাধিক ব্যক্তি ও গ্রাহকের মধ্যে ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয়।সাধারণত এই ধরনের বাণিজ্য  ইলেকট্রনিক বাজার ও অনলাইন নিলাম এর মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে কমার্সের সুযোগ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তির এক বিস্ময়কর নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের এক আধুনিকতা এবং নতুন ছোয়া নিয়ে হাজির হয়েছে ই-কমার্স বিজনেস। এই ব্যবসাটি উন্নত দেশগুলোতে ডিজিটাল বিপ্লব শুরু হয় বিশ শতকের শেষের দিকে। কিন্তু একুশ শতকে এসে উন্নয়নশীল অধিকাংশ দেশে এই ব্যবসাটি নতুন মাত্রা নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের বাংলাদেশে ২০০৯ সালে ই-কমার্স ব্যবসায় সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যবসাটি যেহেতু প্রযুক্তিগত ব্যবসা তাই বড় বড় শহর কেন্দ্রিক ভাবে ব্যাপক বৃস্তার ঘটেছে। তবে কিছু কিছু ছোট শহরগুলোতেও এখন মোটামুটি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেছে কিছু ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ তৃণমূলের মানুষ এখন ধীরে ধীরে এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত হচ্ছে।

প্রিয় টেক বাংলা ব্লগ এর ভিজিটরগণ আসুন আমরা এখন আসল কাজে আসে। আর আমি এখনও বলি আর্টিকেলটি সময় নিয়ে সম্পূর্ণ পড়ুন।

পরিকল্পনায় কৌশলগত যেসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে:

১. একটি লাভ জনক মৌলিক আইডিয়া বের করা

২. ওয়েবসাইট তৈরি;

৩. টার্গেট মার্কেটিং
৪. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও);
৫. প্রোডাক্ট বা কনটেন্ট মার্কেটিং;
৪. ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং;
৫. প্রচার মাধ্যমের সহায়তা গ্রহণ;
৬. পরিকল্পনা তৈরি:
৭. প্রেমেন্ট:
৮. সৌশাল নেটওয়ার্ক এর উপর গুরুত্ব:
১০. পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা;
১১. পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা;
১২. ভোক্তার সঙ্গে অটোমেইলে কানেক্টিভিটি।

১. একটি লাভ জনক মৌলিক আইডিয়া বের করা-  ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মৌলিক আইডিয়া। আমাদের বাংলাদেশে অনলাইনের ব্যবসায়টি যেহেতু সবে মাত্র শুরু হয়েছে তাই ভালো একটি আইডিয়া নিয়ে শুরু করতে পারেন। আর সব থেকে ভালো হয় আপনি যে প্রডাক্টটির সম্পর্কে ভালো জানেন সেটি নিয়েই শুরু করা। কোন শখের বসে পড়ে ব্যবসায় শুরু করবেন না। ইন্টারনেট অনেক ই-কমার্স সাইট রয়েছে সেগুলো থেকে একটি আইডি নিতে পারেন। ব্লগটির শেষে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটের লিষ্ট দিয়ে দেব। প্রথমে সাইটগুলো দেখুন তারা কি কি প্রডাক্ট লঞ্চ করেছে। তারপর সেই সকল প্রডাক্টগুলো বাজার যাচাই করুন। প্রথমে ১০ প্রডাক্ট বাজার যাচাই করে দেখুন এই সকল প্রডাক্ট বাজারে কেমন চাহিদা রয়েছে। যাচাই-বাচাই শেষে প্রথমে ২-৫টি প্রডাক্ট দিয়ে শুরু করে দিতে পারেন। আসাকরি ভালো রেজাল্ট পাবেন। এমন কোন প্রডাক্ট সিলেক্ট করবেন না যেগুলো বাজারে চাহিদা কম অথবা খুব বেশি প্রয়োজনীয় না। তাহলে ধরা খেয়ে যাবেন।

২. ওয়েবসাইট রেডি করা: ই-কমার্স ব্যবসা করতে হলে প্রয়োজন ওয়েবসাইট। ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরা করাটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। একটা দোকানে ডেকারেশন যেমন সৌন্দয্য বৃদ্ধি করে করে তেমনি সুন্দর একটি ওয়েবসাইটও কাষ্টমারকে আকর্ষণ তৈরি করে। বর্তমান এখন পৃথিবীর জনপ্রিয় ওয়ার্ডপ্রেস। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সুন্দর সুন্দর সাইট রেডি করা যায়। আপনি যদি ভালো ওয়েব ডিজাইনার হয়ে থাকেন তাহলে তো আরও ভালো হয়। কিন্তু যারা সাইট তৈরি করতে পারেন না তারা ভালো একজন ওয়েব ডিজাইন কম্পানী থেকে ডিজাইন করে নিতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে কিছু টাকা আপনাকে খরচ করতেই হবে।েআর আপনি চাইলে প্রথমে কয়েকটি সাইট ভালো করে দেখে নিয়ে তারপর সাইট তৈরি করার প্লান করুন। আমি পোষ্টটির নিচে জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটের লিষ্ট দিয়ে দেব যাতে করে আপনার কাজে আসে। আর একটি বিষয় মাথায় রাখুন সেটি হচ্ছে, সাইট মেইনটেন্স করা শিখে নিবেন।

৩. টার্গেট মার্কেটিং- ব্যবসার মুল যে বিষয় সেটি হচ্ছে, টার্গেট মার্কেটিং না করা। ব্যবসার শুরুতে সবার জন্য প্রোডাক্ট নিয়ে শুরু করবেন না তাতে করে ধরা খেয়ে যাবেন। হ্যাঁ বলতে পারেন ইন্টারনেট তো দেখে একটা সাইটে অনেক প্রডাক্ট সেল করে। একটা সাইটে অনেক প্রডাক্ট সেল করাটা কিন্তু ছোট-খাটো ব্যবসায়ীদের জন্য না। যাদের ব্যাপক পরিমান বাজেট রয়েছে একমাত্র তারাই মেগাস্টোর খুলতে পারে। যারা নতুন শুরু করতে চান তাদেরকে আমি বলব, নিশ টার্গেট করে সাইট রেডি করুন। তাতে ব্যাপক সারা পাবেন। যদি নিশ নিয়ে কাজ করেন তাহলে দেখবেন খুব দ্রুত আপনার সাইট র‌্যাঙ্ক করবে।

৪. অনলাইন মার্কেটিং (এসইও) : একটি ব্যবসার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যেটি সেটি হচ্ছে মার্কেটিং। দোকানের জন্য মার্কেটিং আর অনলাইনের জন্য মার্কেটিং অনেক ভিন্ন। তাই আপনার অনলাইনে মার্কেটিং টা খুব গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন মার্কেটিং করতে হলে আপনার সাইটকে অপটিমাইজেশন করতে হবে। অপটিমাইজেশন বলতে এসইও- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। সাইটে এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাইটে যদি কোন ভিজিটর না থাকে তাহলে কোন লাভ হবেনা। এখানে ভিজিটর বলতে আমি অনলাইন কাষ্টমারকে বুঝেয়েছি। আমি আপনাদের জন্য এসইও এর উপর একটি আর্টিকেল লিখব। আসাকরি সাথে থাকবেন। এসইও র উপর যে আর্টিকেলটি হবে সেটি সম্পূর্ণ পূর্ণাঙ্গ। যাতে করে আপনি আপনার সাইটের জন্য এসইও করে টার্গেটি ভিজিটর আনতে পারেন।

৫. প্রোডাক্ট বা কনটেন্ট মার্কেটিং:  প্রডাক্ট এর জন্য কনটেন্ট মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার প্রডাক্টর জন্য হাই-কোয়ালিটি কনটেন্ট তৈরি করুন। আমি যেটা বোঝাতে চাচ্ছি সেটি হচ্ছে, প্রডাক্ট রিভিউ। যত কোয়ালিটি সম্পূর্ণ প্রডাক্ট রিভিউ লিখতে পারবেন ততই গুগল আপনার সাইটকে র‌্যাঙ্ক করবে এবং বেশি বেশি কাষ্টমার পাবেন। প্রডাক্ট রিভিউ এর পাশাপাশি বাইং গাইড তৈরি করুন। মানে কষ্টমার আপনার প্রডাক্টটি কিভাবে কিনবে। কনটেন্টটি লেখার পূর্বে মাথায় রাখতে হবে আপনি যে প্রডাক্টটি নিয়ে লিখছেন সেই প্রডাক্টটির সাথে কনটেন্ট এর মিল থাকে। কনটেন্ট রাইটিং কিভাবে লিখতে হয় তার উপর একটি আর্টিকেল আপনাদের জন্য আমি অবশ্যই শেয়ার করব।

৬. পরিকল্পনা তৈরি: ব্যবসার মুল বিষয় হচ্ছে পরিকল্পনা তৈরি করা। আর আমরা এই পরিকল্পনাতে বিশাল আকারে ভূল করে যাই। ভালো করে লক্ষ করে দেখবেন পশ্চাত্যের দেশেগুলোর ব্যবসায়ী পরিকল্পনা আমাদের থেকে একদন ভিন্ন। আমরা ব্যবসায় পরিকল্পনা না করেই ধুম-ধাম শুরু করে দেই। এতে কিন্তু ব্যাপক ভাবে ধরা খেয়ে যাবেন। আগে পরিকল্পনা করুন তারপর আইডিয়া নিনি এরপর শুরু করতে পারেন। ই-কমার্সের উপর দেশে অনেক ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে সেখান থেকে ট্রেনিং করে নিতে পারেন।

৭. প্রেমেন্ট: আমাদের দেশে এখনও অনলাইনে প্রেমেন্ট নিয়ে সবাই অবগত না। একটি অনলাইন প্রেমেন্ট যদি আপনার সাইটে সেটাপ করতে চান তাহলে আপনার অনেক টাকা বারতি খরচ হয়ে যাবে। যেহেতু আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাই অনলাইন প্রেমেন্ট মাথা থেকে ঝেড়ে দেওয়াটাই ভালো। আপনি বিভিন্ন টেকনিক অবলম্বন করতে পারেন। যেমন- বিকাশ, রকেট, কুরিয়ার ইত্যাদি।

৮. কেমন খরচ করবেন সাইট তৈরিতেঃ  প্রথমত সাইট তৈরি করতে চাইলে আগে নিতে হবে ডোমেইন এবং হোষ্টিং। একটি ডোমেইন ১বছরের জন্য পড়বে ১০০০ টাকা এবং ১জিবি হোষ্টিং এর জন্য খরচ পড়বে সর্বচ্চ ১৫০০ টাকা। ই-কমার্স থিম ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। এরপর যেটা লাগবে ওয়েব ডিজাইন। হ্যাঁ একটি কথা আপনাদের বলে রাখি সেটি হচ্ছে, সাইটটি আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে করতে পারেন। কারণ ওয়ার্ডপ্রেস কাষ্টমাইজ করা তেমন কোন কঠিন কিছু না। আর আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন করতে না পারেন তাহলে ভালো একটি নির্ভরযোগ্য কম্পানী দিয়ে ডিজাইন করে নিতে পারেন। তারা আপনার সাইটের জন্য লোগো প্রযন্ত করে দিবে। সর্বমোট আপনার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে।

৯. সৌশাল নেটওয়ার্ক এর উপর গুরুত্ব:  ওয়েব সাইটে যে প্রডাক্ট আছে সেগুলো সৌশাল নেটওয়ার্ক এ শেয়ার করুন। আপনি প্রথমে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ফেসবুক পেইজ ক্রিয়েট করুন। তারপর আপনার প্রোডাক্টগুলো পেইজে শেয়ার করুন। প্রডাক্ট ফেসবুক পেইজে শেয়ার করার পূর্বে প্রডাক্ট সম্পর্কে ক্যাপশনে সুন্দর করে গুছিয়ে/সাজিয়ে শেয়ার করুন যাতে একজন কাষ্টমার আর্কিষ্ট হয়। আপনি যেহেতু প্রফেশনাল ভাবে ই-কমার্স ব্যবসা করবেন তাই প্রচারের জন্য কিছু বাজেট হাতে রাখুন। ফেসুবক পেইজটা প্রমোট করুন যাতে পেইজটিতে লাইক আসে। আর ভালো কিছু আকর্ষণীয় প্রোডাক্টকে বুষ্ট করুন। দেখবেন আপনার সাইট থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু প্রডাক্ট সেল হচ্ছে। আপার যে ফেসবুক পেইজ রয়েছে সেটাতে কষ্টমার অনেক কমেন্ট করবে। আপনি তাদের প্রত্যেকের কমেন্টর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন।

১০. পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা: পেমেন্ট হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাষ্টমারের কাছ থেকে পেমেন্ট কিভাবে নিবেন তা কিন্তু একটি খুবই ‍গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাটি চালু রাখতে পারেন। পেমেন্ট বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার বিষয়। আপনি কিভাবে কাষ্টমারের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করবেন তা নিজে নিজেই ছক করেনিন।

১১. রেজাল্ট পর‌্যালোচনা: সব কিছু ঠিকঠাক চলছে কিনা তা পর‌্যালোচনা করুন। এবং সেগুলো রেজাল্ট আকারে আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এ লিখে রাখুন। ভূলভ্রান্তি হতেই পারে সেগুলো মার্ক করে সংশোধন করে ফেলুন।

১২. পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা:  পরিবহন ব্যবস্থা একটি গুরুত্ব বিষয়। আপনার প্রডাক্টটি কিভাবে কাষ্টমারের কাছে পৌছাবে সেটি কিন্তু অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। আপনি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে তাদের সাথে ব্যবসায়ীক ডিট করে নিন।

১৩. ভোক্তার সঙ্গে অটোমেইলে কানেক্টিভিটি: আপনার সাইটে অটোমেইল এর ব্যবস্থা রাখুন। কাষ্টমার আপনার সাইটে সাইনআপ করার জন্য যে মেইলটি ব্যবহার করবে সেটিতে অটোমেটিং নোটিফিকেশন কানেক্ট করুন যাতে করে নতুন নতুন প্রডাক্ট তার মেইলে সেন্ট হয়। এখান থেকেও কিন্তু আপনি বিশাল সুবিধা পাবেন।

ই-কমার্স ব্যবসার সুবিধা-অসুবিধা

ই-কমার্সের সুবিধা:

১. খুব দ্রুত ব্যবসা বৃদ্ধি পায়।

২. খুব বেশী সংখ্যক অর্ডার আসলেও সেটা প্রক্রিয়া করা সম্ভব।

৩. সহজে পন্য এবং সেবা খুঁজে পাওয়া যায়।

৪. ব্যবসার জন্য সব সময় অনলাইন স্টোরগুলি খোলা রাখা যায়।

৫. খুব সহজে কাষ্টমারের তথ্য পাওয়া যায়। যেটা ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাকে নতুন পন্য কেনার ব্যপারে উৎসাহ বা মার্কেটিং করা যায়।

৬. যে কেউ পন্য নিয়ে এই ব্যবসা করতে পারে। তার কোন দোকানের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র ফেজবুক পেজ অথবা ওয়েব সাইটে পন্যের ছবি আর দাম দিলেই হয়ে যায়।

৭. মেইনটেনেন্স খরচ দোকানের চেয়ে কম হয়ে থাকে।

৮. ২৪ ঘন্টাই ইনকাম করার পথ সুগম করে।

ই-কমার্সের অসুবিধা:

১. গ্রাহকরা কেনার আগে তা চেক করতে পারবেন না।

২. বর্তমানে ই-কমার্সের ব্যবসা খুবই প্রতিযোগিতামূলক।

৩. মানুষকে অলস করে ফেলে। কারন সে বাজারে গিয়ে পায়ে হেটে বাজার করতে চায় না।

৪. সাইট ক্রাশ বা বন্ধ হলে কেউ কিনতে পারে না।

৫. ২৪/৭ অনলাইন সাপোর্ট সব ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে কাষ্টমার কোন কিছু জানতে চাইলে তার উত্তর তখনই না দিলে তারা অনেক সময় অসন্তুষ্ট হয়।

৬. বাজারে গিয়ে কেনার মানসিকতা এখনও আগের মতই জনপ্রিয় আছে। যদিও মনে করা হয়েছিল এই জনপ্রিয়তা কমে যাবে।

৭. পন্যের গুনগত মান সবসময় ঠিক থাকে না।

৮. ই-কমার্স সাইট থেকে ডেলিভারী চ্যানেল ভালো না হলে ই-কমার্সে ব্যবসায় আগানো যায় না।

জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট এর লিঙ্ক দেয়া হলঃ

Cellbazaar
Bikroy.com
ClickBD
Rokomari
akhoni
ajkerdeal.com

Shwapno
Fortuna Bangladesh
Ushop
Bdbazar24.com
eShoppingHub
JemonKhushi.com
Gadget Gang 7
Ebazon
Bdhaat.com
icon
OScom
Shobji.com
UpoharBD
FeriOla.com
Adhuli.com
Biponee.com
সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। এই কামনা করি। এই টিউনে কোন ভূল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর আমার পোষ্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নিয়োমিত টেক বাংলা ব্লগ সাইটতে ভিজিট করুন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এই কামনায় আমি আপনার পোষ্টটি শেষ করছি।

পোষ্টটি ভালো লাগলে ব্লগ একাত্তর সাইটটি ভিজিট করুন।

Add comment